সময়ের আবর্তে প্রকৃতির নিয়মে এবং প্রয়োজনের তাগিদে সভ্যতার বিবর্তন ঘটে চলেছে। সেইভাবে নানান ঘাত-প্রতিঘাত অতিক্রম করে বহু মেহনতি, শিক্ষানুরাগী ও মহৎ মানুষের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফসল আমাদের প্রিয় মবারকপুর অদ্বৈত মেমোরিয়াল এস. সি. হাইস্কুল
যার প্রতিষ্ঠা ভারতের স্বাধীনতার সেই অমৃত বর্ষে। ১৯৪৭ সালের ২রা জানুয়ারি থেকে ছোট্ট ছোট্ট পায়ে চলতে চলতে আজ পৌঁছে গেছে প্লাটিনাম জয়ন্তীতে। এই পথ চলা কখনো মসৃণ ছিল না। বহু বাধা বিঘ্ন কাটিয়ে আজ কলেবর বৃদ্ধি করে স্বমহিমায় মহীরুহে পরিণত হয়ে প্রতিষ্ঠাতাদের লক্ষ্য পূরণে এগিয়ে চলেছে আগামীর দিকে। ২০০৭ সালের এই বিদ্যালয় ছিল জুনিয়ার হাইস্কুল। সকলের সহযোগিতায় ২০০৮ সালে মাধ্যমিক স্তরে উন্নীত হয়। দেখতে দেখতে ২০১০ সালে শুরু হয় বৃত্তিমূলক ও কারিগরি বিভাগ। রথ যেন আর থামতেই চায় না, 'চরৈবেতি চরৈবেতি' করে ২০১৩ সালে ফুলে ফলে সমৃদ্ধ হয়ে বিজ্ঞান বিভাগ সমেত উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে পৌঁছে যায়। পুরানো কে সঙ্গে করে নতুনের আলোয় উদ্ভাসিত হয়ে এই বিদ্যালয় বট বৃক্ষের ন্যায় শিক্ষাদানের পীঠস্থান হয়ে উঠেছে।
মাতৃ সমা বিদ্যামন্দিরের ছাত্র-ছাত্রী আগামীর পথ প্রদর্শক। আজকের শিশু-কিশোর আগামী দিনের চালিকাশক্তি।
"ঘুমিয়ে আছে শিশুর পিতা সব শিশুরই অন্তরে।"
"এসো সুধীজন, এসো হে স্বজন
এসো প্রাণে চির বন্ধনে এসো পুরাতন, এসো গো আপন
সুরভিত করো উৎসবক্ষণ
মিলনের সুখচন্দনে।"
গাছ থেকে ছায়াকে যেমন বিচ্ছিন্ন করা যায় না, তেমনি বিচ্ছিন্ন করা যায় না প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষাকর্মী ও শিক্ষানুরাগী শুভানুধ্যায়ীদের। কালের অমোঘ নিয়মে প্রত্যেকে নিজ নিজ স্থানে বিরাজ করছে ও করছেন। আশা করবো সকলের উপস্থিতি, অংশগ্রহণ ও সহযোগিতায় বর্তমান ও প্রাক্তনদের মিলন মেলায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ আনন্দমুখর ও উৎসবময় হয়ে উঠুক। এ আমার একান্ত অনুরোধ। "Education is the most powerful weapon which you can use to change the world." বর্তমান মূল্যবোধ আর অবক্ষয়ের যুগে সমাজ ও সংস্কৃতিতে দ্রুত অধোগমন শুরু হয়েছে। ছাত্র-ছাত্রী যারা দেশের ভবিষ্যৎ তাদের মধ্যে দেশপ্রেম, জাতীয়তাবোধ, বিজ্ঞানমনস্ত স্মার্টফোনের অপব্যবহার, খেলাধুলো ও বই পড়ায় আগ্রহী, কুসংস্কার মুক্ত মন ও মানবিক
হৃদয় বোধে উন্নীত হয়ে সুন্দর সমাজ তথা দেশ গড়ে তোলার জন্য সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে যত্নবান হতে হবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে আমাদের এ এক কঠিন লড়াই। আমার প্রত্যাশা সকলে দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে এগিয়ে এলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গৌরব বৃদ্ধি পাবেই। অবশ্যই তা সম্ভব হবে ছাত্র-ছাত্রীরা যখন তার বাবা-মা, শিক্ষক-শিক্ষিকা ও প্রবীনদের সম্মান আর নবীনদের হাসিমুখে গ্রহণ করবে। সর্বোপরি, বিদ্যালয় এর পরিচালক মন্ডলী, শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষা-কর্মী, স্নেহের ছাত্র- ছাত্রী, অভিভাবক অভিভাবিকাবৃন্দ ও শুভানুধ্যায়ীদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় আর মঙ্গলময়ের আশীর্বাদে বিদ্যালয় এর 'প্লাটিনাম জয়ন্তী' উৎসব উদ্যাপন সুন্দর ও সার্থক হোক। আগামী দিনে বিদ্যালয় শতবর্ষের আলোয় প্রজ্জ্বলিত হোক। ছাত্র-ছাত্রীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কথায় বলবো- "হৃদয় বিমল হোক, প্রাণ সবল হোক, বিঘ্ন দাও অপসারি বরিষ ধরা মাঝে শাস্তির বারি।"